Wikipedia

Search results

Saturday, October 26, 2024

ইলন মাস্ক ও তার Tesla Pi Telephone : এতো আলোচনা কেন?

জেফ বেজোস, বিল গেটসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ধনীদের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক৷ তার সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য থাকছে মায়া জগৎ-এ ৷

মোট সম্পদের পরিমাণ: স্পেস-এক্স এবং টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মোট সম্পদের অর্থমূল্য ১৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ ব্লুমবার্গ সূচক অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এখন ইলন মাস্ক৷ গত তিন বছর ধরে শীর্ষ ধনী অ্যামাজনের প্রধান জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলেন তিনি৷ গতবছর প্রায় আট গুণ বেড়েছে টেসলার শেয়ারের দাম৷ টেসলায় ২০ শতাংশ শেয়ার আছে মাস্কের৷

দক্ষিণ আফ্রিকার ছেলে: ১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেটোরিয়াতে এলন মাস্কের জন্ম৷ বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর হাইস্কুল শেষে মা আর ভাই-বোনকে নিয়ে ক্যানাডায় চলে যান মাস্ক৷ সেখানে অন্টারিও'র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা আর অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেন৷

শেষ করেননি শিক্ষাজীবন: স্নাতকোত্তর শেষে পিএইচডি'র জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান৷ কিন্তু অর্থ উপার্জনের নেশায় পিএচইডি অধরা থেকে যায়৷ বর্তমানে উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বের তরুণদের আইকন তিনি৷

প্রতিভাধর: মাত্র দশ বছর বয়সে কমোডর ভিআইসি-২০ কম্পিউটার ব্যবহার করতে গিয়ে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ জন্মায়৷ শেখেন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং৷ ১২ বছর বয়সে বেসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে ব্লাস্টার নামে একটি ভিডিও গেম তৈরি করে ৫০০ ডলারে পিসি অ্যান্ড অফিস টেকনোলজি ম্যাগাজিনের কাছে বিক্রি করে দেন৷

জিপ-টু: উদ্যোক্তা হিসেবে ভাইকে সাথে নিয়ে তিনি জিপ-টু নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন৷ ১৯৯৫ সালে এর পথচলা শুরু হলেও সফল হতে সময় লেগেছিল৷ সেসময় অ্যাপার্টমেন্টে থাকার খরচ না থাকায় অফিসেই ঘুমাতেন৷ ১৯৯৯ সালে কমপ্যাক কোম্পানির কাছে ২২ মিলিয়ন ডলারে জিপ-টু বিক্রি করেন তিনি৷

পেপ্যাল: পেপ্যাল নামের টাকা লেনদেনের একটি ডিজিটাল সার্ভিস চালু করে তিনি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে যান৷ ১৯৯৯ সালে তিনি এক্স.কম নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা পরে পেপ্যালের সাথে একত্রিত হয়৷ ২০০২ সালে ই-বে'র কাছে পেপ্যাল ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন৷ এই বিক্রি থেকে তার লাভ থাকে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার৷

স্পেস এক্সের মঙ্গল অভিযান: রকেট নির্মাণপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স৷ গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্সের তৈরি রকেট ফ্যালকন হেভির সফল উৎক্ষেপণের পর তুমুল আলোচিত হন মাস্ক৷ স্পেসএক্স থেকে ফ্যালকন ১ নামের রকেটটি উৎক্ষেপণ করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু হাল ছাড়েননি৷ ২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গলে একটি পরিপূর্ণ শহর স্থাপনের পরিকল্পনা মাস্কের৷

টেসলা: ২০০৩ সালে যখন এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এর সাথে ছিলেন না মাস্ক৷ পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ইলন মাস্ক বোর্ড অফ ডিরেক্টরসে যোগ দিলে কোম্পানিতে আমূল পরিবর্তন আসে৷ বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি র প্রধান নির্বাহী এবং পণ্য প্রকৌশলী তিনি৷

দ্য বোরিং কোম্পানি: ২০১২ সালে এই হাইপারলুপ প্রযুক্তির দৈনন্দিন ব্যবহারে সর্বপ্রথম আগ্রহ দেখান ইলন মাস্ক৷ হাইপারলুপ-এর জন্য সুরঙ্গ খুঁড়তে তিনি 'দ্য বোরিং কোম্পানি' নামক একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ সম্প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার কিলোমিটার গতিবেগে চলা হাইপারলুপের প্রথম পরীক্ষা সফল হয়৷

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেস এক্স৷ স্পেস-এক্স-এর সবচেয়ে আধুনিক ফ্যালকন রকেটের মাধ্যমে ২০১৮ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধু-১ টেলিকম স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়৷

নিউরালিঙ্ক: ২০১৬ সালে মাস্কের প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি সম্প্রতি একটি ব্রেইন-মেশিন ইন্টারফেস প্রকাশ করেছে, যা মানুষের মস্তিষ্কের সাথে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন যুক্ত করবে৷

বেতন: কোম্পানির সিইও হিসেবে বছরে বেতন নেন মাত্র এক ডলার৷ নিজের অংশীদারিত্ব থাকা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশসহ আরো কিছু সুবিধা পান মাস্ক, যার বেশিরভাগই আসে টেসলা থেকে৷ বছরে ১ ডলার বেতন নেয়াটা আসলে সিলিকন ভ্যালির একটা ট্রেন্ড৷

টেসলা ফাই ফোন:

স্যামসং, অ্যাপলকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন ইলন মাস্ক। স্মার্টফোন দুনিয়ায় আসছে এই মার্কিন ধনকুবেরের প্রতিষ্ঠান টেসলা। চলতি বছর ডিসেম্বরেই বিক্রি শুরু হবে নতুন স্মার্টফোন 'টেসলা পিআই ফোন'।

গাড়ি এবং মহাকাশ শিল্পে একটি সাফল্যের পর টেসলা অদূর ভবিষ্যতে স্মার্টফোন শিল্পেও সফল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও প্রতিষ্ঠানটি এখনো এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে টেসলা পাই ফোন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিচে ফোনের কিছু বৈশিষ্ট্য এবং স্পেসিফিকেশন তুলে ধরা হলো।

টেসলা পাই ফোনের সম্ভাব্য স্পেসিফিকেশন

ডিসপ্লে: টেসলা পিআই ফোনে ৬.৭ ইঞ্চি ওএলইডি ডিসপ্লে থাকবে। এই ডিসপ্লেতে ৪৫৮ পিপিআই পিক্সেল ডেনসিটি ও ১২০ এইচজেড রিফ্রেশ রেট থাকতে পারে। সর্বোচ্চ ১৬০০ নিটস ব্রাইটনেস পাওয়া যাবে।

ক্যামেরা: ফোনের পিছনে থাকবে ট্রিপল ক্যামেরা। এই ক্যামেরায় থাকবে ৫০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর। সেলফি ও ভিডিও কলিংয়ের জন্য থাকবে ৪০ মেগাপিক্সেল সেন্সর। ক্যামেরার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ডুয়াল-পিক্সেল পিডিএএফ, ডুয়াল-এলইডি ডুয়াল-টোন ফ্ল্যাশ, এইচডিআর (ফটো/প্যানোরামা), প্রোরেস, সিনেমাটিক মোড এবং স্টেরিও সাউন্ড রেক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

কর্মক্ষমতা: টেসলা পাই ফোনের জন্য নিজস্ব চিপসেট ডিজাইন করা হয়েছে। এটিকে টেসলা প্রসেসর নাম দিয়েছে বলে জানা গেছে। জিপিইউ এর জন্য টেসলা তার নিজস্ব টেসলা জিপিইউ ব্যবহার করেছে। পিআই ফোনে ব্যবহৃত স্টোরেজের ধরন হল এনভিএমই।

ব্যাটারি: টেসলা পিআই ফোনেরে থাকতে পারে ৫ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি। প্রিমিয়াম সেগমেন্টে এই ফোন উন্মুক্ত করবে টেসলা।

ডিজাইন: টেসলা পিআই ফোনের উচ্চতা, প্রস্থ এবং পুরুত্ব যথাক্রমে ১৫৬.৮ x ৭২.১ x ৭.৬ হতে পারে। এই ফোনের ওজন প্রায় ২৪০ গ্রাম।

দাম: এই ফোনে থাকতে পারে ৮ জিবি র‌্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ। ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যেই বাজারে আসতে পারে টেসলা পিআই ফোন।

No comments:

Post a Comment

ইলন মাস্ক ও তার Tesla Pi Telephone : এতো আলোচনা কেন?

জেফ বেজোস, বিল গেটসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ধনীদের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক৷ তার সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য থাকছে মায়া জগৎ-এ ৷ মোট সম্...