Wikipedia

Search results

Saturday, October 26, 2024

ইলন মাস্ক ও তার Tesla Pi Telephone : এতো আলোচনা কেন?

জেফ বেজোস, বিল গেটসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ধনীদের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক৷ তার সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য থাকছে মায়া জগৎ-এ ৷

মোট সম্পদের পরিমাণ: স্পেস-এক্স এবং টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মোট সম্পদের অর্থমূল্য ১৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ ব্লুমবার্গ সূচক অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এখন ইলন মাস্ক৷ গত তিন বছর ধরে শীর্ষ ধনী অ্যামাজনের প্রধান জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলেন তিনি৷ গতবছর প্রায় আট গুণ বেড়েছে টেসলার শেয়ারের দাম৷ টেসলায় ২০ শতাংশ শেয়ার আছে মাস্কের৷

দক্ষিণ আফ্রিকার ছেলে: ১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেটোরিয়াতে এলন মাস্কের জন্ম৷ বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর হাইস্কুল শেষে মা আর ভাই-বোনকে নিয়ে ক্যানাডায় চলে যান মাস্ক৷ সেখানে অন্টারিও'র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা আর অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেন৷

শেষ করেননি শিক্ষাজীবন: স্নাতকোত্তর শেষে পিএইচডি'র জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান৷ কিন্তু অর্থ উপার্জনের নেশায় পিএচইডি অধরা থেকে যায়৷ বর্তমানে উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বের তরুণদের আইকন তিনি৷

প্রতিভাধর: মাত্র দশ বছর বয়সে কমোডর ভিআইসি-২০ কম্পিউটার ব্যবহার করতে গিয়ে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ জন্মায়৷ শেখেন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং৷ ১২ বছর বয়সে বেসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে ব্লাস্টার নামে একটি ভিডিও গেম তৈরি করে ৫০০ ডলারে পিসি অ্যান্ড অফিস টেকনোলজি ম্যাগাজিনের কাছে বিক্রি করে দেন৷

জিপ-টু: উদ্যোক্তা হিসেবে ভাইকে সাথে নিয়ে তিনি জিপ-টু নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন৷ ১৯৯৫ সালে এর পথচলা শুরু হলেও সফল হতে সময় লেগেছিল৷ সেসময় অ্যাপার্টমেন্টে থাকার খরচ না থাকায় অফিসেই ঘুমাতেন৷ ১৯৯৯ সালে কমপ্যাক কোম্পানির কাছে ২২ মিলিয়ন ডলারে জিপ-টু বিক্রি করেন তিনি৷

পেপ্যাল: পেপ্যাল নামের টাকা লেনদেনের একটি ডিজিটাল সার্ভিস চালু করে তিনি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে যান৷ ১৯৯৯ সালে তিনি এক্স.কম নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা পরে পেপ্যালের সাথে একত্রিত হয়৷ ২০০২ সালে ই-বে'র কাছে পেপ্যাল ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন৷ এই বিক্রি থেকে তার লাভ থাকে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার৷

স্পেস এক্সের মঙ্গল অভিযান: রকেট নির্মাণপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স৷ গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্সের তৈরি রকেট ফ্যালকন হেভির সফল উৎক্ষেপণের পর তুমুল আলোচিত হন মাস্ক৷ স্পেসএক্স থেকে ফ্যালকন ১ নামের রকেটটি উৎক্ষেপণ করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু হাল ছাড়েননি৷ ২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গলে একটি পরিপূর্ণ শহর স্থাপনের পরিকল্পনা মাস্কের৷

টেসলা: ২০০৩ সালে যখন এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এর সাথে ছিলেন না মাস্ক৷ পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ইলন মাস্ক বোর্ড অফ ডিরেক্টরসে যোগ দিলে কোম্পানিতে আমূল পরিবর্তন আসে৷ বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি র প্রধান নির্বাহী এবং পণ্য প্রকৌশলী তিনি৷

দ্য বোরিং কোম্পানি: ২০১২ সালে এই হাইপারলুপ প্রযুক্তির দৈনন্দিন ব্যবহারে সর্বপ্রথম আগ্রহ দেখান ইলন মাস্ক৷ হাইপারলুপ-এর জন্য সুরঙ্গ খুঁড়তে তিনি 'দ্য বোরিং কোম্পানি' নামক একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ সম্প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার কিলোমিটার গতিবেগে চলা হাইপারলুপের প্রথম পরীক্ষা সফল হয়৷

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেস এক্স৷ স্পেস-এক্স-এর সবচেয়ে আধুনিক ফ্যালকন রকেটের মাধ্যমে ২০১৮ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধু-১ টেলিকম স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়৷

নিউরালিঙ্ক: ২০১৬ সালে মাস্কের প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি সম্প্রতি একটি ব্রেইন-মেশিন ইন্টারফেস প্রকাশ করেছে, যা মানুষের মস্তিষ্কের সাথে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন যুক্ত করবে৷

বেতন: কোম্পানির সিইও হিসেবে বছরে বেতন নেন মাত্র এক ডলার৷ নিজের অংশীদারিত্ব থাকা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশসহ আরো কিছু সুবিধা পান মাস্ক, যার বেশিরভাগই আসে টেসলা থেকে৷ বছরে ১ ডলার বেতন নেয়াটা আসলে সিলিকন ভ্যালির একটা ট্রেন্ড৷

টেসলা ফাই ফোন:

স্যামসং, অ্যাপলকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন ইলন মাস্ক। স্মার্টফোন দুনিয়ায় আসছে এই মার্কিন ধনকুবেরের প্রতিষ্ঠান টেসলা। চলতি বছর ডিসেম্বরেই বিক্রি শুরু হবে নতুন স্মার্টফোন 'টেসলা পিআই ফোন'।

গাড়ি এবং মহাকাশ শিল্পে একটি সাফল্যের পর টেসলা অদূর ভবিষ্যতে স্মার্টফোন শিল্পেও সফল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও প্রতিষ্ঠানটি এখনো এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে টেসলা পাই ফোন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিচে ফোনের কিছু বৈশিষ্ট্য এবং স্পেসিফিকেশন তুলে ধরা হলো।

টেসলা পাই ফোনের সম্ভাব্য স্পেসিফিকেশন

ডিসপ্লে: টেসলা পিআই ফোনে ৬.৭ ইঞ্চি ওএলইডি ডিসপ্লে থাকবে। এই ডিসপ্লেতে ৪৫৮ পিপিআই পিক্সেল ডেনসিটি ও ১২০ এইচজেড রিফ্রেশ রেট থাকতে পারে। সর্বোচ্চ ১৬০০ নিটস ব্রাইটনেস পাওয়া যাবে।

ক্যামেরা: ফোনের পিছনে থাকবে ট্রিপল ক্যামেরা। এই ক্যামেরায় থাকবে ৫০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর। সেলফি ও ভিডিও কলিংয়ের জন্য থাকবে ৪০ মেগাপিক্সেল সেন্সর। ক্যামেরার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ডুয়াল-পিক্সেল পিডিএএফ, ডুয়াল-এলইডি ডুয়াল-টোন ফ্ল্যাশ, এইচডিআর (ফটো/প্যানোরামা), প্রোরেস, সিনেমাটিক মোড এবং স্টেরিও সাউন্ড রেক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

কর্মক্ষমতা: টেসলা পাই ফোনের জন্য নিজস্ব চিপসেট ডিজাইন করা হয়েছে। এটিকে টেসলা প্রসেসর নাম দিয়েছে বলে জানা গেছে। জিপিইউ এর জন্য টেসলা তার নিজস্ব টেসলা জিপিইউ ব্যবহার করেছে। পিআই ফোনে ব্যবহৃত স্টোরেজের ধরন হল এনভিএমই।

ব্যাটারি: টেসলা পিআই ফোনেরে থাকতে পারে ৫ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি। প্রিমিয়াম সেগমেন্টে এই ফোন উন্মুক্ত করবে টেসলা।

ডিজাইন: টেসলা পিআই ফোনের উচ্চতা, প্রস্থ এবং পুরুত্ব যথাক্রমে ১৫৬.৮ x ৭২.১ x ৭.৬ হতে পারে। এই ফোনের ওজন প্রায় ২৪০ গ্রাম।

দাম: এই ফোনে থাকতে পারে ৮ জিবি র‌্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ। ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যেই বাজারে আসতে পারে টেসলা পিআই ফোন।

Tuesday, October 22, 2024

বিশ্বজুড়ে রয়্যাল এনফিল্ড জনপ্রিয় একটি নাম !!!

বিশ্বে মোটরসাইকেলের বাজারে রাজকীয় এক মডেলের নাম বিখ্যাত রয়্যাল এনফিল্ড। জনপ্রিয় এই বাইকের প্রতি বাংলাদেশের বাইকপ্রেমীদেরও রয়েছে তুমুল আগ্রহ। এতদিন বাংলাদেশে এই বাইকটি চালানোর অনুমতি ছিল না। তবে তাদের আফসোসের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। সুখবর হলো বাংলাদেশের বাজারে আসছে রয়্যাল এনফিল্ডের বিলাসবহুল এ বাইক।

সোমবার (২১ অক্টোবর) থেকে দেশের বাজারে পাওয়া যাবে ৩৫০ সিসির 'রয়্যাল এনফিল্ড' মোটরসাইকেল। যার দাম পড়তে পারে সাড়ে চার লাখ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার মধ্যে।

মূলত বাংলাদেশে এতদিন ১৬৫ সিসির অধিক সিসির মোটরসাইকেল চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে গত বছর দেশে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি দেয় সরকার।

রয়্যাল এনফিল্ডকে অনেকেই মনে করেন ভারতের ব্রান্ড। ভারতীয় বাইকারদের সঙ্গে এটি এমনভাবে জড়িয়ে গেছে তাতে, এটির উৎপত্তি যে ভারতে নয়, তা অনেকেরই অজানা।

রয়্যাল এনফিল্ডের মূল শিকড় হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। ১৯০১ সালে যাত্রা শুরু হয় রয়্যাল এনফিল্ডের। দুই ব্রিটিশ উদ্যোক্তা বব ওয়াকার স্মিথ এবং অ্যালবার্ট এডি এই মোটরসাইকেল তৈরি করেন। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ভারতের মাদ্রাজ মোটরসের সঙ্গে চেন্নাইয়ে সংযোজন কারখানা স্থাপন করে। এরপর থেকেই ভারতের বাইকপ্রেমীদের মনে স্থান করে নেয় রয়্যাল এনফিল্ড।

      

মূলত অধিক সিসির শক্তিশালী ইঞ্জিন ও স্টাইলিশ লুকের কারণেই ভারতের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই বাইক। বলিউডের জনপ্রিয় অনেক তারকা এবং ভারতের খেলোয়াড়দের পছন্দের তালিকায় রয়েছে রয়্যাল এনফিল্ড।

১৮৯৬ সালে অ্যালবার্ট এডি মিডলসেক্সের এনফিল্ড শহরে রয়েল স্মল আর্মস ফ্যাক্টরির জন্য যন্ত্রপাতি তৈরির অর্ডার পান। এখান থেকেই রয়েল এনফিল্ড নামের জন্ম। এ বছরই নিউ এনফিল্ড সাইকেল কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি কিনে নেয় তারা। এখান থেকে ১৮৯৭ সালে সাইকেলের সব ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি শুরু করে রয়্যাল এনফিল্ড। ধীরে ধীরে যখন মোটরচালিত সাইকেল ইংল্যান্ডে জনপ্রিয় হয়, তখন এনফিল্ড কোম্পানিও মোটরসাইকেল তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।

দুই বছর চেষ্টার পর ১৯০১ সালে নিজেদের প্রথম মোটরবাইক বাজারে আনে রয়্যাল এনফিল্ড। ২৩৯ সিসির এই মোটরবাইক ছিল ১১ দশমিক ২ হর্সপাওয়ার (এইচপি) ক্ষমতাসম্পন্ন। তবে রয়্যাল এনফিল্ডকে সাফল্য এনে দিয়েছিল ১৯০৯ সালে তৈরি তাদের ভি টুইন ২৯৭ সিসি ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল।

এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় মোটরসাইকেলের। সে সময় যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী বেশ বড় আকারের মোটরসাইকেল বাজারে আনে রয়্যাল এনফিল্ড। এটি ছিল ৭৭০ সিসির ও ৬ এইচপি ভি ভি-টুইন মোটরসাইকেল। যুদ্ধের সময় শুধু ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীই নয়, মিত্র শক্তির অন্যান্য পক্ষ যেমন বেলজিয়াম, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সেনাবাহিনীকেও এই মোটরসাইকেল সরবরাহ করে রয়্যাল এনফিল্ড।

শক্ত কাঠামো এবং যান্ত্রিক বিশ্বস্ততার জন্য বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল এই মোটরবাইকগুলো।

শুধু প্রথম বিশ্বযুদ্ধই নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও যুদ্ধক্ষেত্রে জনপ্রিয় ছিল রয়্যাল এনফিল্ডের মোটরবাইক। ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মিলিটারি গ্রেড মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করে রয়্যাল এনফিল্ড কোম্পানি। এ সময় তারা ২৫০ সিসি, ৩৫০ সিসি এবং ৫৭০ সিসি ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল তৈরি করে। এদের মধ্যে রয়্যাল এনফিল্ড ডব্লিউডি/আরই মডেলটিকে প্লেন থেকে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে আকাশ থেকে নিচে ফেলা যেত।

যুদ্ধপরবর্তী সময়ে নতুন নতুন মডেলের বাইক আনে রয়্যাল এনফিল্ড। এ সময়ই বাজারে আসে বিখ্যাত মডেল 'বুলেট'। খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ৩৫০ এবং ৫০০ সিসির বুলেট। এরপর আসে আকারে বড় রয়্যাল এনফিল্ড সুপার মিটিয়র এবং সুপার মিটিয়র কন্সটেলেশন। এগুলোর প্রত্যেকটি ছিলো ৭০০ সিসির।

১৯৪৯ সালে প্রথম ভারতের বাজারে আসে ৩৫০ সিসির বুলেট। মূলত সেনাবাহিনীতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই প্রথম এই বাইকগুলোকে ভারতে আনে দেশটির সামরিক বাহিনী। দেশের সীমান্তে টহল দেয়ার জন্য প্রথম ৮০০ ইউনিট বুলেট ৩৫০ এর অর্ডার দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় ১৯৫৫ সালে মাদ্রাজ মোটরসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চেন্নাইতে একটি সংযোজন কারখানায় উৎপাদন শুরু হয় রয়্যাল এনফিল্ডের। প্রথম দিকে এই কারখানায় মোটরবাইক অ্যাসেম্বলিং করা হতো। তবে ১৯৬২ সাল থেকে ভারতেই তৈরি হওয়া শুরু করে মোটরসাইকেলের পুরোটাই।

বর্তমানে বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে বিক্রি হচ্ছ�

Saturday, October 19, 2024

ভূমিকম্প কী, কেন হয়, এর স্থায়ীত্ব ও সতর্কতা


## ভূমিকম্প কী

ভূমিকম্প হচ্ছে ভূমির কম্পন। ভূ অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার উপরে উঠে আসে তখন ভূমি কম্পন হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশবিশেষের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন বা আন্দোলনই ভূমিকম্পন। হঠাৎ যদি ঘরের কোনো জিনিস দুলতে শুরু করে—যেমন, দেয়ালঘড়ি, টাঙানো ছবি বা খাটসহ অন্য যেকোন আসবাব—বুঝতে হবে ভূমিকম্প হচ্ছে। সহজ কথায় পৃথিবীর কেঁপে ওঠাই ভূমিকম্প।

সারা পৃথিবীতে বছরে গড়ে ছয় হাজার ভূমিকম্প হয়। এগুলোর বেশিরভাগই মৃদু, যেগুলো আমরা টের পাই না। সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে—প্রচণ্ড, মাঝারি ও মৃদু। আবার উৎসের গভীরতা অনুসারে ভূমিকম্পকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূ-পৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে অগভীর, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে মধ্যবর্তী এবং ৩০০ কিলোমিটারের নিচে হলে তাকে গভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

## ভূমিকম্প কেন হয়

ভূ-অভ্যন্তরে স্থিত গ্যাস যখন ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন সেই গ্যাসের অবস্থানটি ফাঁকা হয়ে পড়ে আর পৃথিবীর উপরের তলের চাপ ওই ফাঁকা স্থানে দেবে গিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। তখনই ভূ-পৃষ্ঠে প্রবল কম্পনের অনুভব হয় যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে—ভূ-পৃষ্ঠের হঠাৎ পরিবর্তন জনিত কারণে, আগ্নেয়গিরি সংঘটিত হওয়ার কারণে ও শিলাচ্যুতি জনিত কারণে।

## ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব

ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তার নাম রিখটার স্কেল। রিখটার স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলে মাত্রা ৫-এর বেশি হওয়া মানেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা। ভূমিকম্প এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে এর মাত্রা ১০ থেকে ৩২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা — ৫ - ৫.৯৯ মাঝারি, ৬ - ৬.৯৯ তীব্র, ৭ - ৭.৯৯ ভয়াবহ এবং ৮-এর উপর অত্যন্ত ভয়াবহ।


 অনেক আগে পৃথিবীর সব স্থলভাগ একত্রে ছিল। পৃথিবীর উপরিভাগে কতগুলো অনমনীয় প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত বলে ধীরে ধীরে তারা আলাদা হয়ে গেছে। এই প্লেটগুলোকেই বিজ্ঞানীরা বলেন টেকটোনিক প্লেট।

টেকটোনিক প্লেটগুলো একে-অপরের সঙ্গে পাশাপাশি লেগে থাকে। কোনো কারণে এগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হলেই তৈরি হয় শক্তি। এই শক্তি সিসমিক তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যদি তরঙ্গ শক্তিশালী হয়, তাহলে সেটি পৃথিবীর উপরিতলে এসে পৌঁছায়। আর তখনো যদি যথেষ্ট শক্তি থাকে, তাহলে সেটা ভূত্বককে কাঁপিয়ে তোলে। এই কাঁপুনিই মূলত ভূমিকম্প।

বিবিসি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো স্থানে ভূকম্পনের জন্য ফল্ট লাইনের বড় ভূমিকা রয়েছে। ভূত্বকের বিশাল খণ্ডকে টেকটোনিক ফল্ট বলা হয়। আর দুটি টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে থাকা ফাটলকে ফল্ট লাইন বলা হয়। তুরস্কের পূর্ব আনাতোলিয়ান ফল্টের অবস্থান অ্যারাবিয়ান প্লেট ও আনাতোলিয়ান প্লেটের মাঝে। পূর্ব আনাতোলিয়ান ফল্টকে বহু আগে থেকেই খুবই বিপজ্জনক উল্লেখ করে সতর্ক করেছিলেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।
## ভূমিকম্পের আগে যা করতে হবে
*বিদ্যুৎ ও গ্যাসলাইন বন্ধ করার নিয়ম পরিবারের সবার জেনে রাখতে হবে।
*ঘরের ওপরের তাকে ভারী জিনিসপত্র না রাখা, পরিবারের সব সদস্যের জন্য হেলমেট
রাখতে হবে।

*পরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণের জন্য বিল্ডিং কোড মেনে চলতে হবে।
ভূমিকম্প হলে দ্রুত যা করতে হবে
*ধীরস্থির ও শান্ত থাকতে হবে, বাড়ির বাইরে থাকলে ঘরে না ঢোকাই ভালো।
*একতলা ভবন হলে দৌড়ে বাইরে চলে যেতে হবে। বহুতল ভবনের ভেতরে
থাকলে টেবিল বা খাটের নিচে যেতে হবে; কাচের জিনিস থেকে দূরে থাকতে হবে। লিফট ব্যবহার করা যাবে না।
*উঁচু ভবনের জানালা বা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করা যাবে না। ভূমি ধসে পড়ার আশঙ্কা আছে এমন উঁচু ভূমি থেকে দূরে থাকতে হবে।

*ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
ভূমিকম্পের পর করণীয়
*ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ধীরস্থির ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

*রেডিও টেলিভিশন থেকে জরুরি নির্দেশা শুনে তা মেনে চলতে হবে।

*বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন লাইনে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, পরীক্ষা করে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

*সরকারি সংস্থাগুলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে।
*সম্ভব হলে উদ্ধারকাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে।

তুরস্কে ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরের পর আর ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়নি। এ কারণে দেশটির এমন দুর্যোগ মোকাবিলা ও পূর্বপ্রস্তুতির ঘাটতি থাকতে পারে। এ কারণে ভূমিকম্প বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের পূর্বপ্রস্তুতি থাকা আবশ্যক।
ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মসূচি নিশ্চিত করতে হবে। উদ্ধার কর্মসূচির অভাবে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। পূর্বপ্রস্তুতি, দক্ষ প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী নেটওয়ার্ক উদ্ধার কর্মকাণ্ডের মূল চাবি। তা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ, ওষুধ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

Wednesday, October 16, 2024

বাংলাদেশের রহস্যময় স্থান (৩য় পর্ব)

 রহস্যময় স্থান- ফয়েস লেক

পোর্তো গ্রান্ডে দি বেঙ্গলার: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক নিদর্শন

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, যা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, এখানে প্রথম ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপন করে পোর্তো গ্রান্ডে দি বেঙ্গলার পরিচিতি লাভ করে। ১৬ ও ১৭ শতকের সময়, বঙ্গোপসাগরের এই বাণিজ্যিক অঞ্চল বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠির দ্বারা উপনিবেশিত হয়। পর্তুগিজরা ১৫২৮ সালে চট্টগ্রামে আসার মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইউরোপীয় প্রভাবের সূচনা ঘটে, যা মুঘল বিজয়ের পর ১৬৬৬ সালে শেষ হয়।

ফয়’স লেক: একটি পর্যটন কেন্দ্র

ফয়’স লেক চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম হ্রদ, যা ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে খনন করা হয়। এটি একসময় পাহাড়তলী লেক নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে, এই লেকের চারপাশে গড়ে উঠেছে আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্ট। 

দর্শনীয় স্থান

ফয়’স লেকের আশেপাশে রয়েছে:

**অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড**: আধুনিক রাইড যেমন সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার ইত্যাদি।

- **বাটালি হিল**: চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়।

- **মনোরম পরিবেশ**: হ্রদের পাশের পাহাড়, গাছপালা এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতি।

ইতিহাসের ছোঁয়া

ফয়’স লেকের ইতিহাসে গোপন কাহিনী লুকিয়ে আছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে অনেক বাঙালি শহীদ হন। এই এলাকা স্থানীয়ভাবে "জল্লাদখানা" নামে পরিচিত, যেখানে পাকবাহিনী নির্বিচারে হত্যা চালায়। বধ্যভূমি থেকে প্রায় ১১০০ মাথার খুলি উদ্ধার হয়েছে, যা ঐতিহাসিক একটি অধ্যায়।

ভৌতিক কাহিনী

ফয়’স লেক দিনে আনন্দের স্থান হলেও, রাতে এটি হয়ে ওঠে ভৌতিক এক এলাকা। স্থানীয়রা দাবি করেন, লেকের এক পাশে একটি পাথরের দ্বীপ আছে, যেখানে সন্ধ্যায় একটি বিষণ্ণ মেয়ে ঘুরে বেড়ায়। এছাড়া, গভীর রাতে অদ্ভুত চিৎকার ও সাদা আলো দেখা যায়।

ভ্রমণের তথ্য

ফয়’স লেক পরিদর্শনের জন্য চট্টগ্রাম শহরে আসতে হবে। জিইসি মোড় থেকে সিএনজি বা রিকশায় যেতে পারবেন। এখানে প্রবেশমূল্য ২৫০ টাকা, যা শিশুদের জন্য বিনামূল্যে। 

ফয়’স লেকে বিভিন্ন রাইডের আলাদা প্রবেশমূল্য রয়েছে এবং বনভোজনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও, রিসোর্টের কক্ষ ভাড়া ৪,৯৩৫ থেকে ১০,৫০৮ টাকা পর্যন্ত।

উপসংহার

ফয়’স লেক কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্রই নয়, এটি ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভৌতিক কাহিনীর সমন্বয়। এখানে ভ্রমণ করলে আপনি শুধুমাত্র আনন্দ পাবেন না, বরং এই এলাকার গভীর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও অনুভব করতে পারবেন।

Tuesday, October 15, 2024

বাংলাদেশের রহস্যময় স্থান (২য় পর্ব)

 

            সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড

বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের একটি সংরক্ষিত স্থান হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। এর অর্থ হলো, যার কোনো তল নেই। বঙ্গোপসাগরের এই অঞ্চলটির নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি রহস্য।


আঠারশো শতকের শেষ দিকে ডুবে যাওয়া একটি বৃটিশ যুদ্ধজাহাজের খোঁজে এসেছিল দেশটির আরো কয়েকটি জাহাজ। এর সঙ্গে ছিল একদল জরিপকারীও। কোনো নিশানা না পেয়েই এর নাম দেয় সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।

রহস্যময় এ স্থানটি সবার নজরে আসে ২০১৪ সালে। ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে সংরক্ষিত এলাকাটি গঠিত। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

গভীরতম এ উপত্যকা রেকর্ড আয়তন প্রায় ১৩৪০ মিটার। এর গড় গভীরতা প্রায় ১২০০ মিটার। এখানকার ডুবো গিরিখাত বঙ্গীয় উপবদ্বীপের অংশ। যা বিশ্বের বৃহত্তম ডুবো গিরিখাত।

ইতিহাসের তথ্য মতে, গঙ্গা -ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের মধ্যকার এ গভীর খাদটি ‘গঙ্গা খাদ’ নামে পরিচিত। বিশ্বের বড় ১১টি বড় উপত্যকার একটি।


কথিত আছে, এখানেই ১৮৬৩ সালে গ্যাডফ্লাই নামে একটা ২১২ টন ওজন বিশিষ্ট গানবোট ভারত থেকে ইংল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ ধনরত্ন নিয়ে যাওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ডু্বে যায়। তখন সেটির কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি।

সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড একটি সামুদ্রিক অভয়ারণ্য। স্থানটিকে স্থানীয় জেলেরা বলে নাই বাম। কারণ তারা সাগরে ফুট কিংবা মিটারে হিসাব না করে বাম, দশ বাম, বিশ বাম। আর সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের গভীরতা সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই বলেই, নাই বাম বলে ডাকেন তারা।

প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর খাদ মারিয়ানা ট্রেঞ্চের মতো। বঙ্গোপসাগরের অন্যতম মাছের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে নানা জাতের সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি আছে বিশাল তিমি, ডলফিন, হাঙর, কচ্ছপ আর বিরল প্রজাতির কিছু জলজপ্রাণী। প্রায় দেড় হাজার বর্গমাইলের বিস্তীর্ণ এলাকাটি বিরল জীববৈচিত্রের নিরাপদ প্রজননকেন্দ্র।

এসব সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো তিমি, পপাস ডলফিন, পৃথিবীর বৃহত্তম ইরাবতী ডলফিন, গোলাপি পিঠের কুঁজো ইন্দো প্যাসিফিক ডলফিন ও মসৃন পিঠের (পাখনাহীন) ইমপ্লাইস ডলফিন।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় এক স্থান হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। এখানে পানির কাছাকাছি সী-গাল পাখির অবস্থান দেখে বুঝতে পারবেন ডলফিন এবং তিমির অবস্থান। তিমির মধ্যে এখানে দেখতে পাবেন ব্রীড তিমি ও মিল্কি তিমি।

দৈত্যাকার তিমির উপস্থিতি মুহূর্তে শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিলেও সৃষ্টির এমন রহস্য কাছ থেকে দেখে নিজেকে পরম সৌভাগ্যবানই মনে হবে। এছাড়া সামুদ্রিক রহস্যময় জীব জগতের মধ্যে এখানে দেখতে পাবেন প্রায় ১০ প্রজাতির পাখি, ৩০ প্রজাতির মাছ সহ আরো নানা জাতের প্রাণী।


স্থানীয় জেলেরা এখানে মাছ ধরার সময় অদ্ভুত কিছু ঘটনার কথা বলেছেন। অনেকেই দাবি করেছেন যে তারা এখানে অদৃশ্য সত্তার উপস্থিতি অনুভব করেছেন।স্থানীয় মানুষের মধ্যে এই অঞ্চলের বিভিন্ন কিংবদন্তি ও কাহিনী প্রচলিত আছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এখানে কিছু অশুভ শক্তি বিরাজমান। তাদের মতে, কিছু সময় তারা অনুভব করেছেন যেন তাদের চারপাশে অদৃশ্য কিছু ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা স্থানীয়দের মধ্যে অনেক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।স্থানটি মাঝে মাঝে অদ্ভুত রঙের জল দেখা দেয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।

কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে এটি তলদেশের কিছু উপাদানের কারণে হতে পারে।স্থানীয় মানুষদের মধ্যে এই স্থানের চারপাশে অনেক পুরোনো কাহিনী প্রচলিত আছে, যা স্থানটির রহস্যময়ত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এর মধ্যে রয়েছে দেবদূত, জলদস্যু এবং অন্য অশুভ শক্তির কাহিনী।অনেক লোক বলেন, প্রাচীনকালে এখানে জলদস্যুরা লুকিয়ে ছিল। তারা জাহাজ থেকে ডাকাতি করে চলে যেত। স্থানীয় লোকেরা বিশ্বাস করে যে এখনও তাদের আত্মা এই অঞ্চলে বিরাজমান।কিছু স্থানীয় জনগণের মতে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে বিপদের সংকেত হিসেবে অদ্ভুত তীব্র বাতাস বা ঢেউ দেখা দেয়। তারা বিশ্বাস করে যে এটি পূর্বাভাস দেয় যে সেখানে বিপদ আসছে।পুরোনো ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই অঞ্চলে কিছু অশুভ শক্তি বিদ্যমান। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে এই ধরনের বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে যে যারা সেখানে যাতায়াত করে তাদের জীবনে বিপদ ঘটতে পারে। (২য় পর্ব)


বাংলাদেশের রহস্যময় স্থান (১ম পর্ব)

 বাংলাদেশের রহস্যময় স্থানগুলো সাধারণত ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। এখানে দুইটি রহস্যময় স্থানের বিবরণ দেওয়া হলো:

১. বগালেক

বগালেক বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এবং রহস্যময় স্থান। এটি বান্দরবানের অন্তর্গত এবং উচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা হলো:

 ১. ভৌগোলিক অবস্থান

বগালেক বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি পাহাড়ি এলাকায় গঠিত একটি প্রাকৃতিক লেক যা তার পরিষ্কার নীল জল এবং ঘন বন দ্বারা ঘেরা।

২. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

বগালেকের পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। চারপাশে পাহাড়, ঘন জঙ্গল এবং অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য এখানে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বর্ষাকালে এর সৌন্দর্য আরও বাড়ে, যখন বৃষ্টির জল লেকে এসে মিশে যায়।


৩. রহস্যময় কাহিনী

স্থানীয় লোকজন বিশ্বাস করেন যে বগালেকের গভীরে অনেক রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। কিছু লোকের মতে, লেকের নিচে অদৃশ্য প্রাণী বা দেবতা বাস করে। এর স্রোত এবং ঝর্নার আওয়াজকে অনেক সময় রহস্যময় মনে করা হয়।

৪. সংস্কৃতি ও জনজীবন

বগালেকের আশেপাশে পাহাড়ি আদিবাসীরা বসবাস করে, যারা নিজেদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেন। তাদের জীবনযাত্রা এবং লোককাহিনীর মধ্যে এখানকার লেক এবং পরিবেশের প্রভাব রয়েছে।

 ৫. পর্যটন

বগালেক পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। অনেকেই এখানে ট্রেকিং, ক্যাম্পিং এবং নৌকাবাইচের জন্য আসেন। তবে এখানে যাওয়ার জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য হতে পারে, কারণ এর পথ দুর্গম।

৬. নিরাপত্তা

বগালেক যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া উচিত। কিছু জায়গায় দুর্বল নিরাপত্তা থাকতে পারে, তাই সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

৭. সংরক্ষণ

বগালেকের পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় স্থানীয়রা সচেতন। তারা পর্যটকদের এই স্থানকে নষ্ট না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।

বগালেক একটি অনন্য প্রাকৃতিক স্থান, যা শুধু তার সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং এর রহস্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতির জন্যও বিশেষ।

২. চিকন কালা বা নিফিউ পাড়া 

চিকন কালা, যেটি নিফিউ পাড়া নামেও পরিচিত, বাংলাদেশে এক রহস্যময় স্থান হিসেবে পরিচিত। এটি বান্দরবান জেলার অন্তর্গত এবং এর সৌন্দর্য এবং অনন্য সংস্কৃতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে কিছু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:

 ১. ভৌগোলিক অবস্থান

চিকন কালা বা নিফিউ পাড়া বান্দরবানের থানচি উপজেলায় অবস্থিত। এটি একটি পাহাড়ি অঞ্চল, যেখানে পৌঁছাতে হলে ট্রেকিং করতে হয়। স্থানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ, এবং এটি ঘন জঙ্গলে ঘেরা।

২. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

চিকন কালার চারপাশে উঁচু পাহাড়, বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি এবং সরু পাথুরে পথ রয়েছে। এখানে অসংখ্য ঝর্ণা এবং ছোট ছোট লেকও রয়েছে, যা স্থানটিকে আরো রহস্যময় করে তোলে।

৩. সংস্কৃতি

নিফিউ পাড়া স্থানীয় আদিবাসীদের বসবাসস্থল। এখানে বাঙালি এবং বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মিশ্রণ রয়েছে। স্থানটির সংস্কৃতি, ভাষা এবং খাদ্য প্রণালী সবকিছুতেই একটি বৈচিত্র্য দেখা যায়।

৪. রহস্যময় কাহিনী

স্থানীয় লোকজন বিশ্বাস করেন যে চিকন কালার আশেপাশে কিছু অদৃশ্য শক্তি কাজ করে। বিভিন্ন ধরনের কাহিনী ও পৌরাণিক কাহিনী স্থানটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে একটি রহস্যের সৃষ্টি করে।

৫. পর্যটন

চিকন কালা একটি জনপ্রিয় ট্রেকিং পয়েন্ট। এখানে ট্রেকিংয়ের জন্য আসা পর্যটকরা প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। তবে, এখানে যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা ও অন্যান্য তথ্য জানা উচিত।

৬. স্থানীয় জীবনযাত্রা

এখানে আদিবাসী জনগণের জীবনযাত্রা খুবই সরল। তারা মূলত কৃষি এবং পারিবারিক ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। তাদের সংস্কৃতির মধ্যে লোকজ সাহিত্য এবং উৎসবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চিকন কালা বা নিফিউ পাড়া প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য এবং রহস্যময় পরিবেশের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এটি একটি স্থান যেখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং রহস্যের মিলন ঘটে। (১ম পর্ব)

ইলন মাস্ক ও তার Tesla Pi Telephone : এতো আলোচনা কেন?

জেফ বেজোস, বিল গেটসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ধনীদের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক৷ তার সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য থাকছে মায়া জগৎ-এ ৷ মোট সম্...