রহস্যময় স্থান- ফয়েস লেক
পোর্তো গ্রান্ডে দি বেঙ্গলার: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক নিদর্শন
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, যা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, এখানে প্রথম ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপন করে পোর্তো গ্রান্ডে দি বেঙ্গলার পরিচিতি লাভ করে। ১৬ ও ১৭ শতকের সময়, বঙ্গোপসাগরের এই বাণিজ্যিক অঞ্চল বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠির দ্বারা উপনিবেশিত হয়। পর্তুগিজরা ১৫২৮ সালে চট্টগ্রামে আসার মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইউরোপীয় প্রভাবের সূচনা ঘটে, যা মুঘল বিজয়ের পর ১৬৬৬ সালে শেষ হয়।
ফয়’স লেক: একটি পর্যটন কেন্দ্র
ফয়’স লেক চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম হ্রদ, যা ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে খনন করা হয়। এটি একসময় পাহাড়তলী লেক নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে, এই লেকের চারপাশে গড়ে উঠেছে আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্ট।
দর্শনীয় স্থান
ফয়’স লেকের আশেপাশে রয়েছে:
**অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড**: আধুনিক রাইড যেমন সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার ইত্যাদি।
- **বাটালি হিল**: চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়।
- **মনোরম পরিবেশ**: হ্রদের পাশের পাহাড়, গাছপালা এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতি।
ইতিহাসের ছোঁয়া
ফয়’স লেকের ইতিহাসে গোপন কাহিনী লুকিয়ে আছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে অনেক বাঙালি শহীদ হন। এই এলাকা স্থানীয়ভাবে "জল্লাদখানা" নামে পরিচিত, যেখানে পাকবাহিনী নির্বিচারে হত্যা চালায়। বধ্যভূমি থেকে প্রায় ১১০০ মাথার খুলি উদ্ধার হয়েছে, যা ঐতিহাসিক একটি অধ্যায়।
ভৌতিক কাহিনী
ফয়’স লেক দিনে আনন্দের স্থান হলেও, রাতে এটি হয়ে ওঠে ভৌতিক এক এলাকা। স্থানীয়রা দাবি করেন, লেকের এক পাশে একটি পাথরের দ্বীপ আছে, যেখানে সন্ধ্যায় একটি বিষণ্ণ মেয়ে ঘুরে বেড়ায়। এছাড়া, গভীর রাতে অদ্ভুত চিৎকার ও সাদা আলো দেখা যায়।
ভ্রমণের তথ্য
ফয়’স লেক পরিদর্শনের জন্য চট্টগ্রাম শহরে আসতে হবে। জিইসি মোড় থেকে সিএনজি বা রিকশায় যেতে পারবেন। এখানে প্রবেশমূল্য ২৫০ টাকা, যা শিশুদের জন্য বিনামূল্যে।
ফয়’স লেকে বিভিন্ন রাইডের আলাদা প্রবেশমূল্য রয়েছে এবং বনভোজনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও, রিসোর্টের কক্ষ ভাড়া ৪,৯৩৫ থেকে ১০,৫০৮ টাকা পর্যন্ত।
উপসংহার
ফয়’স লেক কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্রই নয়, এটি ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভৌতিক কাহিনীর সমন্বয়। এখানে ভ্রমণ করলে আপনি শুধুমাত্র আনন্দ পাবেন না, বরং এই এলাকার গভীর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও অনুভব করতে পারবেন।




No comments:
Post a Comment